শুক্রবার, ১৮ জুলাই, ২০১৪

কথাকলি - দেবাশিস লাহা


এসো কথাকলি , বিন্দাস কথা বলি ---
হৃদয় তো এখন চতুষ্কোণ ,
বিকোয় যেখানে সেখানে -
দোকানে , রেললাইনে ,
ইংরাজী অভিধানে যাকে সিমকার্ড বলে --
আর বাংলা ?
না মাতৃভাষায় একে সম্বোধনের রীতি
আয়ত্তাধীন হয়নি এখনও !
অফুরন্ত টক টাইম এখন--
ত্রিশ বা চল্লিশ টাকার প্রাণ বায়ু ভরে নিলে
আরো আয়ু বেড়ে যায় তার !
এসো আমরা দুজন খুব কাছাকাছি
দুটো সংখ্যা হয়ে যাই !
এসো কথাকলি --
বিন্দাস কথা বলি !
বলি পুচকা , বলি শপিং মল ,
বলি রেস্তোরা , উদ্দাম হলাহল --

বলি ট্রেন বলি ট্রাম ,
ট্যাক্সিতে বসে হঠাত ট্রাফিক জ্জ্যাম
বলি হেয়ার ক্রিম , চুল পরিপাটি
বলি ব্যারাকপুর , আসলে বিরাটি ;
অনেক তো কথা হলো-
এসো এবার হৃদয়ে হাত রাখি !
বলি নীরবতা, বলি নীরব হও
বলি চাঁদ , বলি পাখি
মেঘ দিয়ে ঢেকে রাখি ,
বলি ঝরণা, মধ্যরাত
স্নিগ্ধ কোনো সংলাপ
বলি নদী, চলাচল --
প্রবাহিত আঁখি জল
বলি খুকি কোথায় গেলি ?
কাঠবেড়ালি, কাঠবেড়ালি !
এসো ভালবাসা , তুমি শিশু হও
স্পর্শ নয়, পরশ দাও
শব্দ নয়, শ্বাস দাও
দেওয়াল নয়, আশ্রয় দাও
এসো কথাকলি
আজ নিজের সাথে কথা বলি


উপদেষ্টব্য -আকাশ মির্জা



বুকে হাজার বছরের পুরানো ময়লা
সেটাই ভাল
যৌনতা ছাড়া বাজারে কিছু চলেনা
সবই নগ্ন...
নিরানব্বই ফর্মুলায় প্রস্তুতনরনারী
বুড়ো-বুড়ি, ছোড়া-ছুড়িসবাই এখন ওত পেতে...
মাংসের দাম বাড়ছে...
এখানে একটা রংচটা বিপ্লবী মুখ খুলেছিল
কাঠি নেভানোর জন্য একটা ঝটকাই যথেষ্ট...
ফুটপাথে সেকেন্ড হ্যান্ড
ইচ্ছা অনুযায়ী পুত্র, কন্যা লাভ
কাগজে চেপে বাড়ি
বোকা বাক্সেহাজার রকম শিক্ষার সুযোগ..

বায়োস্কোপের আরশি - অব্যয় অনিন্দ্য


মেঘের দাঁতে তৈতৈ হাঁস খুঁজছে অন্তুর চোখ
চোখের তারায় হীরামণ পাখি
পাখির ঠোঁটে রূপকথায় কাঁচরঙের ঘোড়া
ঘোড়াটা রূপকথা ফেলে ক্রিকেট মাঠে -
মাঠের কোনে বাবুলদার হাতে ন্যুড ছবির ভিউকার্ড
ভিউকার্ডের তরমজা ভাবতেই নিবুর প্রথম চিঠি
চিঠির উত্তর লিখল রবীন্দ্রনাথ
রবীন্দ্রনাথের বজরা কীর্ত্তনখোলাতীরে বিভা ঠাকুরাণীর হাটে -
সেখানে অন্তুকে বনলতার আঁচলে বাঁধা ট্রাম দেখাল জীবনানন্দ
বনলতাকে খুঁজতেই এলান পোর ঘরে ববমার্লোর গলা
মার্লোর হেয়ারস্টাইলে ঝুলে আছে লালন
লালনের চোখটাই আরশিনগর -
আরশিতে অন্তুর জীবনের বায়োস্কোপ ঘুরছে
.
বায়োস্কোপের শেষ দৃশ্য
নিবুর কোলে ছেলেকে চুমু দিচ্ছে অন্তুর অফিস ব্লেজার -
ব্লেজারের নিচে বৈরাগী মন সময়ের সাথে রেসলিং করছে

ভুলে গেছ - ইন্দ্রানী ভট্টাচার্য



 বলেছিলে চিরকাল এমনিই ভালবাসবে...
ঝুমরী তিলাইয়ার জঙ্গলে, ক্যাকটাসের গায়ে;
নখের আঁচড়ে ফুটে উঠেছিল, প্রিয়তমার নাম.
অঙ্গীকার করেছিলে, আসবে তাকে নিয়ে কখনও...
এক রৌদ্রোজ্জ্ল সকালে অথবা
একটি মেঘলা, মন কেমন করা বৃষ্টি ভেজা দুপুরে.
সাক্ষী ছিল, ঝিরঝিরে ঝোরাটা, সাক্ষী ছিল
মাথা উঁচু করে দাঁড়ানো, ভোরের লালে মাখা, ছোট্ট পাহাড়টা.
কবে যেন ভুলে গেলে তুমি, তোমার সেই প্রতিশ্রুতি!
কখনও কি মনে পড়ে সেই ফেলে আসা দিনগুলো?
একটি কিশোরীর হাত ধরে তখন
ঝমঝমে বৃষ্টির মধ্যে ছুটে যেতে;
দুটি হৃদয় যখন বৃষ্টির আড়ালে, হৃদয়ের শব্দ শুনত-
দুটো হাতের মাঝে, পায়রা-নরম,
গরম শরীর টাকে রেখে, ভালোবাসায় উত্সুক,
উজ্জল চোখে চোখ মিলিয়ে বলেছিলে,
'গাম্ভীর্য তোমাকে একদম মানায় না.'
জানতে পারোনি, তার স্বপ্ন দেখা, হাসিতে উজ্জল দুটি নয়ন
হারিয়ে গেছে কোথায় কখন...নোনা জলের সাগরে.
দেখার সময় পাওনি, 'তোমার সঙ্গে বৃষ্টি দেখব' বলা
চল্লিশ ছুই ছুই, আজকেও কিশোরিটি
রাত জেগে একা একা বৃষ্টির শব্দ শোনে.

জলকন্যা : একটি চতুর্দশপদী - মিনহাজুল ইসলাম (অন্তর)



ধূসর কল্পনা ফেড়ে বাস্তবের নীলাভ প্রচ্ছদে
একটু দাড়াও এসে প্রিয়তমা, কবিতার পাশে
-
ছন্দের আধারে , সদ্য আবিষ্কৃত উপমার হূদে
স্বর্ণালী নক্ষত্র হয়ে সুমহান কাব্যের আকাশে -
সতেজ পুষ্পিত ঘ্রাণে নীল
গল্পের ফুলদানিতে
নিশিগন্ধার ঈষৎ
শুভ্রতা মাখা বর্ণচ্ছটায় -
চৈত্র- বৈকালিক রোদে ভাসমান ঝিলের
পানিতে মাছরাঙা প্রহরের অলিখিত গানের কথায়
দাড়াও, ধোঁয়াটে কালো কার্বনের তিক্ত
বাষ্পজলে
প্রতিস্থাপনীয় বিক্রিয়ার উদাহরণ ডিঙিয়ে -
সুরমার তীরে লেগে থাকা জেলে নৌকার
মাস্তুলে জলসার পদ্মফুলে মৃত কীটের কবর দিয়ে ;
ভাবনা আর কল্পনা জুড়ে শুধু তুমি ,জলকন্যা ,
অথচ বাস্তবে কত জলশূন্য অসহায় কান্না ....